গোপীবাগের ছয় খুনে গ্রেপ্তার হোলি আর্টিজান হামলায় অভিযুক্ত দুই জঙ্গি

হোলি আর্টিজানে হামলার মামলায় অভিযুক্ত দুই শীর্ষ জঙ্গিনেতাকে রাজধানীর গোপীবাগের ছয় খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুই জঙ্গি সদস্য হলেন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) হাদিসুর রহমান সাগর ও মামুনুর রশীদ রিপন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ সম্প্রতি আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, জেএমবি সদস্যরাই গোপীবাগের ছয় খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। হাদিসুর রহমান ও মামুনুর রশীদ দুজনই জেএমবির সক্রিয় সদস্য। যখন ছয় খুন সংগঠিত হয়, তখন এই দুই জঙ্গি জেএমবির নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে ছিলেন। হাদিসুর, মামুনুরসহ জেএমবির অন্য সদস্যরা মিলে গোপীবাগের ছয় খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

কাউন্টার টেররিজম বিভাগ আদালতকে আরও বলেছে, জেএমবির হাদিসুর রহমান ও মামুনুর রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে গোপীবাগের ছয় খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে।

মামলার এজাহার বলছে, ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গোপীবাগের ৬৪/৬ নম্বর বাড়িতে ইমাম মাহাদীর প্রধান সেনাপতি বলে দাবি করা লুৎফর রহমানসহ ছয়জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত অপর পাঁচজন হলেন লুৎফরের ছেলে সারোয়ার ইসলাম, লুৎফরের অনুসারী মঞ্জুর আলম, মো. শাহিন, মো. রাসেল ও মজিবর সরকার। এ ঘটনায় লুৎফরের ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় হত্যা মামলা করেন।

আবদুল্লাহ আল ফারুক আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুনের ছয় বছর পার হতে চলল, আজও পুলিশ এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারল না। বাবাসহ অন্যদের কারা খুন করল জানতে পারলাম না। কী কারণে খুন করা হলো, তাও জানলাম না।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল নজরুল আজ বুধবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, হলি আর্টিজান হামলার মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি হাদিসুর রহমান ও মামুনুর রশীদকে গোপীবাগের ছয় খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম বিভাগ ২ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের কাছে ছয় খুনের মামলায় হাদিসুর রহমান ও মামুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। একই সঙ্গে ছয় খুনের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য দুজনকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

আদালত সূত্র বলছে, আজ দুই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে ঢাকার আদালত দুজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল নজরুল বলেন, আদালত দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এখনো জেএমবির হাদিসুর ও মামুনুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেননি।

হোলি আর্টিজান হামলার অন্যতম সমন্বয়ক ও অস্ত্র জোগানদাতা জঙ্গি নেতা হাদিসুর রহমানকে গত বছরের ২২ মার্চ বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর জঙ্গি নেতা মামুনুর রশীদকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গত ২২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে দুজনকে হোলি আর্টিজান হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুজনই এখন কারাগারে আছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে আইএসপন্থী জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি হামলা চালায়। এতে পুলিশ ও দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন।

গোপীবাগের ছয় খুন
গোপীবাগের ছয় খুনের মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ওয়ারী থানার পুলিশ। পরে মামলার তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ছয় খুনে জড়িত সন্দেহে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন জেএমবির সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, আজমির অমিত, গোলাম সারওয়ার ও আল আমিন। আদালতের অনুমতি নিয়ে এই চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ।

গোপীবাগের ছয় খুনের পর ২০১৫ সালে অক্টোবর মাসে বাড্ডায় খুন হন বাড্ডায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান কথিত পীর খিজির হায়াত খান। মামলাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশ। ওই খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় জঙ্গি তরিকুল ইসলাম। পরে গোপীবাগের ছয় খুনের মামলায় তারিকুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ছয় খুনের ব্যাপারে ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দেন তারিকুল। পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় গাফফার নামের আরেক জঙ্গিকে।

গোপীবাগের ছয় খুন সংগঠিত হওয়ার পরের বছর ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে রাজধানীর পূর্ব রাজাবার এলাকায় খুন হন মাওলানা ফারুকী। মামলাটি তদন্ত করে ডিবি। পরে মামলার তদন্তভার পায় পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বছরে হোলি আর্টিজান হামলায় অভিযুক্ত হাদিসুর রহমান সাগরকে ফারুকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১৮ সালের ৩০ মে হাদিসুর রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জেএমবি সদস্যরাই ফারুকীকে খুন করেন, তা আদালতকে জানান হাদিসুর রহমান।

গোপীবাগে খুন হওয়া লুৎফর রহমানের ছেলে মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, কারা আমার বাবাকে, ভাইকে খুন করল। কী কারণে ছয়জনকে খুন করল?

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *