বিএনপির ‘মনোযোগ’ চায় ২০ দল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধা বিএনপির নেতৃত্বাধীন আরেক জোট ২০ দল শুরু থেকেই সহজভাবে নেয়নি। নির্বাচনের পরে তারা বলতে থাকে, বিএনপির রাজনীতি ঐক্যফ্রন্ট-নির্ভর এবং পুরোনো জোট ২০ দলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। ২০ দলের শরিকেরা বলছেন, দ্রুতই জোটের ব্যাপারে বিএনপিকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নয়তো দলগুলো ‘একলা চলো’ নীতিতে চলবে।

বিএনপির ২০ বছরের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গতকাল সোমবার জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। জোট ছাড়ার পেছনে বিজেপি বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর ২০-দলীয় জোট স্থবির হয়ে যাওয়া এবং রাজনীতি ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে পড়া। তাদের অিভযোগ, সংহতি ও সহমত পোষণের জন্যই ২০ দলের সভা ডাকা হতো। এ ছাড়া বিএনপির শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়াটাও পছন্দ করেনি বিজেপি।

হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল করে বিএনপি সংসদে যোগ দেয়। এ ঘটনায় ২০ দলের শরিকরা সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, বিএনপি এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে বিএনপির যোগদান করার বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিকভাবে সব দলের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে পারত। বিএনপি সময়ের কাজ সময়ে করা না। অসময়ে করে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি থেকে কেউই এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি। বিএনপি এভাবে জোট চালাতে চাইলে জোটের দলগুলো যার যার মতো চলবে।

২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম প্রথম আলোকে বলেন, যে নিয়মে বিএনপি ২০ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে ও সমন্বয় করছে, সেখানে অনেক দুর্বলতা আছে। ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা জড়িত ছিলাম না। পরিস্থিততে বাধ্য হয়ে আমরা সম্মতি দিয়েছি।’

বিএনপির উদ্দেশে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ২০-দলীয় জোটকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। জোটকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিএনপির এখন ২০ দলকে নিয়ে বসা উচিত।

ঐক্যফ্রন্টকে ছাড়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগে কথা ছিল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি মেনে নেওয়ার পর নির্বাচনে যাওয়ার। মোস্তাফিজুরের অভিযোগ, ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সেভাবে আসেনি এবং জিয়াউর রহমানের নামও তারা নেয় না। ঐক্যফ্রন্ট সরকারের কোনো মিশন বাস্তবায়নেই এখানে সমবেত হয়েছে।

বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০ দলকে পাশ কাটিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে নিয়েই বিএনপি দৃশ্যমান ছিল। ২০ মের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টকে ছাড়তে হবে এবং ২০ দলকে কার্যকর করে করতে হবে। বিএনপিকে সময় দিয়েছি ঐক্যফ্রন্ট নামের কানামাছি খেলা বন্ধ করতে হবে। ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করব, দেখি বিএনপি কী প্রতিক্রিয়া দেয়। সেদিন সংবাদ সম্মেলন করব। আরও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’ ঐক্যফ্রন্টকে ছাড়লেই কি ২০ দল কার্যকর হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বিএনপির সদিচ্ছার ব্যাপার।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের ২০ দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত ৮ এপ্রিল সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। নির্বাচনের পর তারা দুবারই বৈঠক করে। এ জোটের দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম বা কর্মসূচি দেখা যায়নি। জোটের শরিকরা প্রকাশ্যেই বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তবে বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে তাদের কোনো জোটেই কোনো সমস্যা নেই।

বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয় দুই জোটকে সঙ্গে নিয়েই। দীর্ঘদিনের জোট ২০ দলকে হাতে রেখে গত বছরের অক্টোবরে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনেও এই নতুন জোটের নামেই বিএনপি ও ২০ দল অংশ নেয়। তবে ২০ দলকে ৪০টি আসন এবং ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু পুরো জোটে বিএনপি পায় ৬টি আসন এবং গণফোরাম পায় ২টি আসন। বিএনপি ছাড়া ২০ দলের অন্য কোনো শরিক দল কোনো আসন থেকে জয় পায়নি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *